পেটেই রইল গজ-ব্যা’ন্ডেজ, অপ*চিকিৎসায় প্রসূতির মৃ*ত্যু

সোনারগাঁয় ভুল চিকিৎসায় অমান্তিকা নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে। আজ সোমবার সকালে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্তব্যরত লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

Loading...

নিহত অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, গত ৬ সেপ্টেবর শুক্রবার তার স্ত্রী অমান্তিকার পেটে ব্যথা হলে রয়েল হাসপাতালের মাঠকর্মী শাহানাজের পরামর্শে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গাইনি ডাক্তার নূরজাহানকে খবর দিলে সে জানায় রোগী বাঁচাতে হলে সিজার করতে হবে।

১৩ হাজার টাকা চুক্তিতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমান্তিকাকে সিজার করেন এবং একটি কন্যাসন্তানের জম্ম দেন। এরপর ডাক্তার নূরজাহান তাড়াহুড়ো করে আরেকটি অপারেশন আছে বলে সাথে থাকা নার্সকে সেলাই করার জন্য নির্দেশ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তার সহযোগী নার্স পেটের ভেতর গজ ও ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দেন।

অপারেশনের পর অমান্তিকার জরায়ু দিয়ে রক্তপাত ও ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি ৭ অক্টোবর ডা. নূরজাহানকে জানালে সে নারায়ণগঞ্জের কেয়ার হাসপাতালে নিতে বলেন। সেখানে নেওয়ার পর রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তিনি আল্ট্রাসোনোগ্রাফ করতে বলেন। আল্ট্রাসোনোগ্রাফে দেখা যায় রোগীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রয়ে গেছে। নূরজাহান নিজেই রোগীর স্বজনদের অনুমতি না নিয়ে আবারো অপারেশন করে তা অপসারণ করেন। এ সময় তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে তার জরায়ু ফেলে দিতে হবে।

Loading...

রোগীকে বাঁচাতে তারা এ শর্ত মেনে নেন। অপারেশন শেষে অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে রোগীর স্বজদের জানানো হয় রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে তাকে দ্রুত ঢাকা আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। শনিবার রাতেই স্বজনরা রোগীকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অমান্তিকার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে অমান্তিকার স্বজনরা সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রেখে তার বিচার চেয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অমান্তিকা (১৮) উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড়সাদিপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও পিন্টু মিয়ার স্ত্রী। এ বিষয়ে চিকিৎসক নূরজাহান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সোনারগাঁয়ের প্রায় ১২টি ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতালে নূরজাহানই একমাত্র গাইনি চিকিৎসক। নূরহাজান চুক্তির মাধ্যমে এসব হাসপাতালে রোগীর অস্ত্রোপচার করে থাকে। আর বেশির ভাগ সময়ই নূরজাহান প্রসূতি রোগীদের ভুল চিকিৎসা করে থাকে। অস্ত্রোপচারের পরও অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা সুলতানা হক জানান, এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি তদন্ত টিম পাঠানো হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের দায়ের করা দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading...

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*